আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে, তবে বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে। সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে আলোচনার রেশ কমলেও হঠাৎ করেই আবার সামনে এলো সাকিব আল হাসানের দলে না থাকা প্রসঙ্গ। দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর এবার এ বিষয়ে নিজেই মুখ খুললেন সাকিব।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও করা হয়নি বলে জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
সাকিবের সঙ্গে বিসিবির যোগাযোগের অভাব
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানিয়েছিলেন, সাকিবের বোলিং নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে স্কোয়াডের কম্বিনেশনে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে তাকে রাখার জায়গা হয়নি।
তবে এতদিন এ নিয়ে মুখ না খুললেও, সম্প্রতি ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, তার কোনো অভিযোগ নেই, তবে বিসিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুশি হতেন।
সাকিব বলেন, ‘দেখুন, কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবে যদি বিসিবির সঙ্গে আমার যোগাযোগটা ভালোভাবে করা হতো, তাহলে আমি খুশি হতাম।’
প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা
এর আগে প্রধান নির্বাচক লিপু বলেছিলেন, ‘সাকিব বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন, তাই তিনি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে পারতেন। কিন্তু আমাদের দলে কেবল একজন ব্যাটসম্যান যোগ করার সুযোগ ছিল না।’
তবে তার দলে না থাকা নিয়ে সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো আলোচনার বিষয় ছিল না। কেউ অবসর না নিলে সে আমাদের বিবেচনায় থাকে, যা বিসিবি সভাপতিও বলেছেন। আমরা ফিটনেসসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়েছি।’
সাকিবের বোলিং ফেরার অনুমতি
সাকিবের অনুপস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা সেভাবে রান পাননি। শুধু নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ম্যাচে কিছু রান করলেও, দলের মূল পারফরমার ছিলেন তরুণরাই। বাংলাদেশ ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গ্রুপপর্বেই বিদায় নেয়, আর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়।
এদিকে, তৃতীয় দফায় ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামে পরীক্ষা দিয়ে বোলিং নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাকিব। ফলে এখন থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া দুই পর্যায়েই আবার বোলিং করতে পারবেন।
তবে তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে।